আজঃ শনিবার ০৫-০৪-২০২৫ ইং || খ্রিষ্টাব্দ

৭২ ঘণ্টা পর চোখ খুলেছে গুলিবিদ্ধ সেই শিশুটি

Posted By Shuvo
  • আপডেটেড: শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫
  • / পঠিত : ৪ বার

৭২ ঘণ্টা পর চোখ খুলেছে গুলিবিদ্ধ সেই শিশুটি

: লক্ষ্মীপুরে গুলিবিদ্ধ শিশু আবিদা সুলতানা (৬) প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর চোখ খুলেছে। তবে কথা বলছে না বলে জানিয়েছেন শিশুটির মা আমেনা বেগম। সে এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে আমেনা বেগম জানান, আবিদার অস্ত্রোপচার হয়েছে। তার ফুসফুস, কিডনি, কলিজাতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। শুধু রক্ত কনিকা ভালো আছে। চোখ খুললেও কথা বলতে পারছে না আবিদা। 

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে আমেনা বেগম মোবাইলে এসব কথা জানান।

এদিকে আবিদাকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অহিদসহ তিনজনের নামে চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলা করেছে তার বাবা ইব্রাহিম খলিল। মামলায় অভিযুক্ত ফাতেমা বেগম আঙ্কুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মামলা দায়েরের পর তাকে চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আঙ্কুরী মামলার প্রধান অভিযুক্ত অহিদের স্ত্রী। অপর আসামি অহিদের ছেলে মো. ফাহিম। ঘটনার পর থেকে অহিদ ও ফাহিম পলাতক রয়েছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের কাচারি বাড়ি এলাকায় বাড়িতে শিশু আবিদা গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনার সময় আবিদা প্রধান অভিযুক্ত অহিদের মেয়ে জেরিনের সঙ্গে খেলছিল। আবিদার মা আমেনা তাকে ঘরে আসার জন্য ডাকছিল। তখন অভিযুক্ত ফাতেমা ও ফাহিমের প্ররোচণায় আবিদাকে হত্যার উদ্দেশে পিস্তল নিয়ে গুলি করেন অহিদ। গুলিটি আবিদার পিঠের ডান পাশে বিদ্ধ হয়ে পেটের ডান পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। তাৎক্ষণিক আবিদা অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সদর হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অহিদ একজন অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। মামলার বাদী ইব্রাহিম প্রবাসে থাকাকালীন অহিদ বিভিন্নভাবে তার কাছ থেকে টাকা নিতো। একবছর আগে বাদী প্রবাস থেকে চলে আসেন। এরপর আর অহিদকে টাকা-পয়সা দিচ্ছেন না। এজন্য তাদের মধ্যে মনমালিন্য সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর হাসপাতালে আনার পথে ধারণকৃত একটি ভিডিওতে শিশু আবিদাকে বলতে শোনা যায়, অহিদ তাকে গুলি করেছে। তবে কি কারণে, কীভাবে গুলি করছে সে কথা বলতে পারেনি। এরপর তার দুই চোখের পাতা বন্ধ হয়ে যায়।

গুলিবিদ্ধ শিশুটির মা আমেনা বেগম বলেন, ঘটনার দিন আছরের নামাজের পর অহিদের ছেলে ফাহিমের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলে করে তিনজন লোক আসে। মাগরিবের সময় তিনটি মোটরসাইকেল নিয়ে আরও কয়েকজন লোক আসে। তখন ওজু করতে গেলে দেখি তারা অহিদের বাড়িতে ঢুকছে। লোকগুলোকে দেখে আমার কলিজায় কামড় দিয়েছে, ভয়ও পেয়েছি। তাদের দেখলেই ভয় লাগে। আবিদা তখন অহিদের মেয়ে জেরিনের সঙ্গে খেলছিল। লোকজনের কারণে আমি তাকে আনতে যেতে পারিনি। পাশে একটি ঘরে ঢুকে জানালা দিয়ে ডাকছিলাম। তখন ঘরের দরজার পেছনে অহিদ যেন কি করছিল। হঠাৎ সেখান থেকে বের হয়ে ঘরের সামনের একটি আমগাছের নিচে যায়। সেখানে আবিদা ও জেরিন ঘুরে ঘুরে খেলছিল। এরমধ্যেই অহিদ আমার মেয়ের পিঠে গুলি করে। আমি দৌড়ে গিয়ে মেয়েকে কোলে নিয়ে তাকে বলেছি, তুই আমার মেয়েকে শেষ করে দিয়েছিস। এসবের পর সে মানিব্যাগ বের করে টাকা দিচ্ছিল চিকিৎসার জন্য। আমি সব ফেলে দিয়ে মেয়েকে বাঁচানোর জন্য হাসপাতাল চলে যাই।

চন্দ্রগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বেলায়েত হোসেন বলেন, শিশুকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা মামলায় তিনজনের নামে মামলা হয়েছে। এরমধ্যে একজন গ্রেপ্তার রয়েছে। তাকে লক্ষ্মীপুর আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

ট্যাগস :

শেয়ার নিউজ


নিউজ কমেন্ট করার জন্য প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে লগইন করুন

© All rights reserved © "Daily SB NEWS"
Theme Developed BY Global Seba